হোমে ফিরুন

অধ্যায়

যিকর ও দোয়া

হজ ও ওমরাকালীন যিকর ও দোয়াসমূহ — কাবা দর্শন, তাওয়াফ, সাঈ, আরাফা, রমি ও সকাল-সন্ধ্যার আমলসহ — আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও সূত্রসহ। নিচের বিষয়ভিত্তিক বিভাগে সাজানো হয়েছে।

কাবা শরিফ দর্শনের দোয়া

মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে কাবা শরিফ প্রথম দেখার সময়ের তাকবির ও দোয়া।

কাবা শরিফ দর্শনের তাকবির

কাবা শরিফ দেখার সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত উঁচু করে বলুন।

اَللهُ اَكْبَر

আল্লাহু আকবার

আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

কাবা শরিফ দর্শনের দোয়া

রাসুলুল্লাহ ﷺ দু'হাত আকাশের দিকে তুলে এভাবে দোয়া করতেন।

اَللّٰهُمَّ زِدْ هَذَا الْبَيْتَ تَعْظِيمًا وَتَشْرِيفًا وَتَكْرِيمًا وَمَهَابَةً، وَزِدْ مَنْ شَرَّفَهُ وَكَرَّمَهُ مِمَّنْ حَجَّهُ أَوِ اعْتَمَرَهُ تَشْرِيفًا وَتَكْرِيمًا وَتَعْظِيمًا وَبِرًّا، اَللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، حَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ

আল্লাহুম্মা যিদ হাযাল বাইতা তাশরীফান ওয়া তা'যীমান ওয়া তাকরীমান ওয়া মাহাবাতান। ওয়া যিদ মান শাররাফাহু ওয়া কাররামাহু মিম্মান হাজ্জাহু আও ই'তামারাহু তাশরীফান ওয়া তাকরীমান ওয়া তা'যীমান ওয়া বিররান। আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালাম, ফাহাইয়িনা রাব্বানা বিসসালাম।

হে আল্লাহ, আপনার এই ঘরের বড়ত্ব, সম্মান ও মর্যাদা এবং শান-শওকত বাড়িয়ে দিন। আর হজ ও ওমরাকারীদের মধ্যে যে এ ঘরের সম্মান ও ইহতিরাম করবে, তার সম্মান, মর্যাদা, মহত্ত্ব ও নেকি বাড়িয়ে দিন। হে আল্লাহ, আপনি শান্তির মালিক, সকল শান্তি আপনার পক্ষ থেকেই। হে আমাদের রব, শান্তির সঙ্গে আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন।

আল কিরা: ২৫৫

তাওয়াফের দোয়া ও যিকর

তাওয়াফের নিয়ত থেকে শুরু করে হাজরে আসওয়াদ, রুকনে ইয়ামানি, মাকামে ইবরাহিম ও যমযমের দোয়া। তাওয়াফে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া ফরজ নয় — যেকোনো দোয়া পড়া যায়; এখানে হাদিস ও আসার থেকে কিছু দোয়া দেওয়া হলো।

তাওয়াফের নিয়ত

তাওয়াফ শুরু করার আগে হাজরে আসওয়াদের কোনায় এসে এভাবে নিয়ত করুন।

হে আল্লাহ, আমি আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হজ/ওমরার তাওয়াফ করছি। আমার জন্য তা সহজ করুন এবং কবুল করুন।

হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারার দোয়া

তাওয়াফ শুরু করার আগে হাত দ্বারা হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করে পড়ুন।

বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলুল্লাহ্।

আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ ﷺ-এর ওপর।

তাওয়াফ শুরুর দোয়া

তাওয়াফ শুরু করার আগে সম্ভব হলে এই দোয়া পড়ুন।

আল্লাহুম্মা ঈমানান বিকা, ওয়া তাসদীকান বিকিতাবিকা, ওয়া ইত্তিবা'আন লিসুন্নাতি নাবিয়্যিকা মুহাম্মাদিন ﷺ।

হে আল্লাহ (আমি তাওয়াফ শুরু করছি) আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্যায়ন করে এবং আপনার নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর অনুসরণ করে।

মাজমউয যাওয়াইদ: ৫৪৭০

রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে

রাসুলুল্লাহ ﷺ রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে এই বরকতময় কুরআনি দোয়া পড়তেন।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

রাব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান্নার।

হে আমাদের রব, আপনি আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।

মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা

হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহিমের মাঝে

রাসুলুল্লাহ ﷺ হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহিমের মাঝে এই দোয়া পড়তেন।

اللَّهُمَّ قَنِّعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ، وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ لِي بِخَيْرٍ

আল্লাহুম্মা কান্নি'নী বিমা রাযাকতানী, ওয়া বারিকলী ফীহি, ওয়াখলুফ আলাইয়া কুল্লা গা-ইবাতিন লী বিখাইর।

হে আল্লাহ, যে রিজিক আপনি আমাকে দান করেছেন তাতেই আমাকে তুষ্ট রাখুন ও এতে বরকত দান করুন, এবং আমার থেকে দূর হয়ে যাওয়া প্রতিটি নিয়ামতের উত্তম বদলা আমাকে দান করুন।

মুসতাদরাকে হাকেম

পূর্ণ তাওয়াফে পঠিত দোয়া

পূর্ণ তাওয়াফজুড়ে এই দোয়া পড়তে পারেন।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। বিশ্বময় তাঁর রাজত্ব ও আধিপত্য, সব প্রশংসা তাঁরই। আর তিনিই সর্বশক্তিমান।

মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা

যমযম পানের দোয়া

যমযমের পানি পানের সময় শুরুতে বিসমিল্লাহ ও শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলুন এবং পান করার আগে-পরে এই দোয়া পড়ুন।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফি'আ, ওয়া রিযকান ওয়াসি'আ, ওয়া শিফাআম মিন কুল্লি দা-য়িন।

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী ইলম, প্রশস্ত রিজিক ও সব রোগ থেকে শেফা প্রার্থনা করছি।

মানাসিক: ১৩৯

সাঈর দোয়া ও যিকর

সাঈর নিয়ত, সাফা পাহাড়ে ওঠা, কাবামুখী হয়ে দোয়া এবং দুই সবুজ পিলারের মাঝে দ্রুত চলার সময়ের দোয়া।

সাঈর নিয়ত

সাঈ শুরু করার আগে এভাবে নিয়ত করুন।

হে আল্লাহ, আমি আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ওমরা/হজের সাঈ করছি। আমার জন্য তা সহজ করুন এবং কবুল করুন।

সাফা পাহাড়ে ওঠার দোয়া

সাফা পাহাড়ে ওঠার সময় এই আয়াত পড়ুন।

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ، فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা'আ-ইরিল্লাহ, ফামান হাজ্জাল বাইতা আও ই'তামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আই ইয়াত্তাওওয়াফা বিহিমা, ওয়া মান তাতাওওয়া'আ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শা-কিরুন আলীম।

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহয় হজ কিংবা ওমরা করবে, এই দুটির তাওয়াফে (সাঈতে) তার জন্য দোষ নেই। কেউ স্বেচ্ছায় ভালো কাজ করলে নিশ্চয় আল্লাহ পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।

সূরা বাকারা: ১৫৮

সাফায় উঠে কাবামুখী হয়ে দোয়া

সাফা পাহাড়ে উঠে বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে তিনবার 'আল্লাহু আকবার' বলে এই দোয়া পড়ুন।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু বিইয়াদিহিল খাইরু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। বিশ্বময় তাঁর রাজত্ব ও আধিপত্য, সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, সব কল্যাণ তাঁর হাতে। আর তিনি সর্বশক্তিমান।

সহিহ মুসলিম: ১২১৮

দুই সবুজ পিলারের মাঝে (দ্রুত চলার সময়)

সাফা-মারওয়ায় সাঈর সময় দুই সবুজ পিলারের মাঝে দ্রুত চলার সময় এই দোয়া পড়ুন।

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ

রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতাল আ'আযযুল আকরাম।

হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন। আপনি মহাপরাক্রমশালী, মহাসম্মানী।

মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ১৫৮০৭

সাঈর প্রতি চক্করে

সাঈর প্রত্যেক চক্করে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়া পড়তে থাকুন।

কোরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়া পড়া যাবে।

তালবিয়া, আরাফা, রমি ও অন্যান্য দোয়া

তালবিয়া, আরাফার ময়দান, কঙ্কর নিক্ষেপ (রমি) ও হজ-ওমরা থেকে ফেরার দোয়া এবং দোয়া কবুলের বিশেষ স্থানসমূহ।

তালবিয়া

ইহরাম বাঁধার পর থেকে ১০ জিলহজ কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত পাঠ করতে থাকুন।

لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ

লাব্বাইক্কাল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক

হে আল্লাহ, আমি হাজির, আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা ও নিয়ামত আপনারই এবং রাজত্বও আপনার; আপনার কোনো শরিক নেই।

বুখারি: ১৫৪৯; মুসলিম: ১১৮৪

আরাফার ময়দানের দোয়া (ক)

আরাফার ময়দানে নির্দিষ্ট দোয়া জরুরি নয়; সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবারসহ যেকোনো দোয়া-জিকির নিজ ভাষায় করা যায়। হাদিস ও আছারে বর্ণিত কিছু দোয়া দেওয়া হলো।

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। বিশ্বময় তাঁর রাজত্ব ও আধিপত্য, সকল প্রশংসা তাঁরই। আর তিনিই সর্বশক্তিমান।

জামে তিরমিযি: ৩৫৮৫

আরাফার ময়দানের দোয়া (খ)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) উকুফের সময় হাত তুলে তিনবার 'আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ' বলে এই দোয়া পড়তেন।

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

اللَّهُمَّ اهْدِنِي بِالْهُدَى، وَنَقِّنِي بِالتَّقْوَى، وَاغْفِرْ لِي فِي الْآخِرَةِ وَالْأُولَى

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আল্লাহুম্মাহদিনী বিল হুদা, ওয়া নাক্কিনী বিত তাকওয়া, ওয়াগফিরলী ফিল আ-খিরাতি ওয়াল উলা।

আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। বিশ্বময় তাঁর রাজত্ব ও আধিপত্য, সকল প্রশংসা তাঁরই। আর তিনিই সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ, আমাকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করুন, তাকওয়ার মাধ্যমে পবিত্র করে দিন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আমাকে ক্ষমা করে দিন।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা: ১৪৯২৩

কঙ্কর নিক্ষেপের (রমি) দোয়া

রমি (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ) করার সময় এই দোয়া পড়ুন।

বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, রাগমান লিশ শায়াত্বীন, ওয়া রিদা'আন লির রাহমান, আল্লাহুম্মাজ'আলহু হাজ্জাম মাবরূরান, ওয়া যামবাম মাগফূরান, ওয়া সা'ইয়াম মাশকূরান, ওয়া তিজারাতান লান তাবূরা।

সেই আল্লাহর নামে, যিনি মহান। শয়তানকে অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে এবং দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমি এ কঙ্কর মারছি। হে আল্লাহ, আমার হজ কবুল করুন, গুনাহরাজি ক্ষমা করুন, প্রচেষ্টাকে ফলবতী করুন এবং এই আমলকে এমন ব্যবসায় পরিণত করুন যাতে ক্ষয় নেই।

হজ-ওমরা থেকে ফেরার দোয়া

হজ-ওমরা থেকে ফেরার সময় এই দোয়া পড়ুন।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ، صَدَقَ اللّٰهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আ-য়িবূনা, তা-ইবূনা, সা-জিদূনা লিরাব্বিনা হা-মিদূন। সাদাকাল্লাহু ওয়া'দাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।

আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই; তাঁরই জন্য সকল রাজত্ব ও প্রশংসা এবং তিনি সব কিছুর ওপর সামর্থ্যবান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী, সিজদাকারী, আমাদের পালনকর্তার প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রুদলকে পরাজিত করেছেন।

সহীহ বুখারী: ১৭৯৭

দোয়া কবুলের বিশেষ স্থানসমূহ

হজের সময় মক্কা-মদিনায় দোয়া কবুলের বিশেষ স্থান।

১. মাতাফ (তাওয়াফের জায়গা)। ২. মুলতাযাম (কাবা ঘরের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান)। ৩. মীযাবে রহমতের নিচে। ৪. যমযম কুয়ার কাছে। ৫. মাকামে ইবরাহিমের পেছনে। ৬. সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের উপরে। ৭. রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে। ৮. মিনার মসজিদসমূহে ও মিনার ময়দানে। ৯. মুজদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে। ১০. জাবালে রহমত, জাবালে নূর ও জাবালে সাওরে। ১১. কঙ্কর মারার স্থানে। ১২. রিয়াযুল জান্নাতে।

সকাল-সন্ধ্যার দু'আ ও যিকর

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো সকাল ও সন্ধ্যার যিকর ও দু'আসমূহ — আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও সূত্রসহ। প্রতিটির সাথে পাঠের সংখ্যা ও ফযীলত উল্লেখ করা হয়েছে।

১ নং যিকর — আয়াতুল কুরসী

সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার • ফযীলত: সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করলে সারাদিন ও সারারাত জিনের আক্রমণ থেকে নিরাপত্তায় থাকবে; রাতে শোয়ার সময় পড়লে শয়তান নিকটবর্তী হবে না; পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের পর পড়লে জান্নাত লাভে মৃত্যু ব্যতীত কোনো বাধা থাকবে না।

اللهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো হক ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।

সূরা বাকারা: ২৫৫

২ নং যিকর — ৩ কুল

সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস — প্রত্যেকটি সকালে ৩ বার এবং সন্ধ্যায় ৩ বার • ফযীলত: পাঠকারীর জন্য সব কিছুর ক্ষতি থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।

সূরা ইখলাস

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ، اللهُ الصَّمَدُ، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

সূরা ফালাক্ব

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ، وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

সূরা নাস

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، مَلِكِ النَّاسِ، إِلٰهِ النَّاسِ، مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ، الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ، مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ

সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস।

সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস; আবু দাউদ: ৪৯৯৬; তিরমিযি: ৩৫৭৫

৩ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ৭ বার • ফযীলত: যে ব্যক্তি দু'আটি সকালে ৭ বার এবং সন্ধ্যায় ৭ বার বলবে, তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন।

حَسْبِيَ اللهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

হাসবিয়াল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়া, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুওয়া রাব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম।

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো হক ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি। আর তিনি মহান আরশের রব।

সূরা তাওবা: ১২৯ (ফযীলত: আবু দাউদ: ৫০৮১; ইবনুস সুন্নী: ৭১)

৪ নং যিকর — সাইয়িদুল ইস্তিগফার

সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার • ফযীলত: দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সকাল ও সন্ধ্যায় পাঠ করলে সেদিনে বা রাতে মারা গেলে নিশ্চিতভাবে জান্নাতী হবে।

اللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي، وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

আল্লা-হুম্মা আনতা রাব্বী, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাত্বা‘তু। আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা- সানা‘তু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযামবী। ফাগফির লী ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা- আনতা।

হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রতিপালক, আপনি ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আর আমি আমার সাধ্যানুযায়ী আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি আপনার প্রদত্ত নিয়ামত স্বীকার করছি। আর আপনার কাছে আমার পাপকর্মেরও স্বীকারোক্তি দিচ্ছি। অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করতে পারেনা।

বুখারি: ৬৩০৬

৫ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার • ফযীলত: যে ব্যক্তি প্রত্যহ সকাল ও সন্ধ্যায় এই দু'আ ৩ বার করে বলবে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা- ইয়াদুর্রু মা‘আসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা- ফিস্ সামা-ই ওয়া হুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম।

শুরু করছি আল্লাহর নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান এবং যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।

তিরমিযি: ৩৩৮৮; ইবনে মাজাহ: ৩৮৬৯

৬ নং যিকর — তাহলীল

সকাল-সন্ধ্যায় ১০ বার • ফযীলত: ১০ বার বললে ১০টি করে নেকী, ১০টি করে গুনাহ মাফ ও ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি হবে এবং ৪টি কৃতদাস মুক্ত করার সাওয়াব ও শয়তান থেকে মুক্তি নসীব হবে। ১০০ বার বললে ১০টি কৃতদাস মুক্তির সাওয়াব, ১০০ নেকী ও ১০০ গুনাহ মাফ হবে এবং সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপত্তা থাকবে।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহূ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল ‘হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাই‘ইন ক্বদীর।

একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

বুখারি: ৬৪০৩; মুসলিম: ২৬৯১

৭ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার • সন্ধ্যায়: «اللّٰهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ» • ফযীলত: নবী ﷺ এ দু'আ পড়ার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।

اللّٰهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ النُّشُورُ

আল্লা-হুম্মা বিকা আসবা‘হনা, ওয়া বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা না‘হইয়া, ওয়া বিকা নামূতু, ওয়া ইলাইকান নুশূর। (সন্ধ্যায়: …ওয়া ইলাইকাল মাসীর)

হে আল্লাহ, আমরা আপনার অনুগ্রহে সকালে উপনীত হয়েছি এবং আপনারই অনুগ্রহে আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি। আর আপনার করুণায় আমরা জীবিত থাকি, আপনার ইচ্ছায়ই আমরা মৃত্যুবরণ করব; আর আপনার কাছেই পুনরুত্থিত হব।

তিরমিযি: ৩৩৯১; ইবনে মাজাহ: ৩৮৬৮

৮ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার • বিশেষ দ্রষ্টব্য: সন্ধ্যায় أَصْبَحْنَا-এর স্থলে أَمْسَيْنَا (অর্থ: আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হলাম) বলতে হবে • ফযীলত: নবী ﷺ এ বাক্যগুলো নিয়মিত বলতেন।

أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ، وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ، وَعَلَى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَعَلَى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ

আসবা‘হনা ‘আলা- ফিতরাতিল ইসলাম, ওয়া ‘আলা- কালিমাতিল ইখলাস, ওয়া ‘আলা- দীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ওয়া ‘আলা- মিল্লাতি আবীনা- ইবরাহীমা ‘হানীফাম্ মুসলিমা। ওয়া মা- কা-না মিনাল মুশরিকীন।

আমরা সকাল যাপন করেছি ইসলামের প্রকৃতির ওপর, ইখলাসের বাণী (তাওহীদ)-এর ওপর এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর ধর্মের উপর ও আমাদের পিতা ইবরাহীমের আদর্শের ওপর– যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম, তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

আহমাদ: ১৫৩৬৩

৯ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার • ফযীলত: আবু বাকার সিদ্দীক্ব (রা.)-কে নবী ﷺ এই দু'আটি শিক্ষা দেন এবং সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার ওসিয়ত করেন।

اللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ

আল্লা-হুম্মা ফা-তিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ‘আ-লিমাল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাহ, লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা রাব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালীকাহ। আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি নাফসী ওয়া মিন শাররিশ শাইত্বা-নি ওয়া শিরকিহী, ওয়া আন আক্বতারিফা ‘আলা- নাফসী সূআন, আও আজুররাহূ ইলা- মুসলিম।

হে আল্লাহ, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে অদৃশ্য ও প্রকাশ্যের জ্ঞানী, হে সব কিছুর রব ও মালিক, আপনি ছাড়া আর কোনো হক ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্ট থেকে ও তার ফাঁদ থেকে। আরো আশ্রয় চাই, আমার নিজের প্রতি কোনো অন্যায় করা অথবা কোনো মুসলিমের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া থেকে।

আল-আদাবুল মুফরাদ: ১২০৪; মুসনাদে আহমাদ: ৬৮৫১

১০ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার • ফযীলত: সার্বিক নিরাপত্তা লাভের সবচেয়ে ব্যাপক দু'আ; রাসূলুল্লাহ ﷺ সকাল-সন্ধ্যায় কখনো এ দু'আ ছাড়তেন না।

اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللّٰهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাতি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল ‘আ-ফিয়াতা ফী দীনী ওয়া দুনইয়া-য়া, ওয়া আহলী ওয়া মা-লী। আল্লা-হুম্মাসতুর ‘আওরা-তী, ওয়া আ-মিন রাও‘আ-তী। আল্লা-হুম্মা‘হফাযনী মিম্বাইনি ইয়াদাইয়া, ওয়া মিন খালফী, ওয়া ‘আন ইয়ামীনী, ওয়া ‘আন শিমা-লী, ওয়া মিন ফাওক্বী, ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তা‘হতী।

হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও সুস্থতা-নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং হেফাজত চাইছি– আমার দীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ, আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন এবং আমাকে ভয়ভীতি থেকে নিরাপদে রাখুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাকে হেফাজত করুন আমার সম্মুখ থেকে, পেছনের দিক থেকে, ডানদিক থেকে, বামদিক থেকে এবং উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের ওসিলায় আশ্রয় চাই ভূমি ধসে আকস্মিক মৃত্যু থেকে।

ইবনে মাজাহ: ৩৮৭১

১১ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার • ফযীলত: নবী ﷺ নিয়মিত এ দু'আটি পড়তেন।

اللّٰهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي، اللّٰهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي، اللّٰهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ

আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাদানী, আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী সাম‘য়ী, আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাসারী। লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল কুফরি, ওয়াল ফাক্বরি, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি, লা- ইলা-হা ইল্লা আনতা।

হে আল্লাহ, আমাকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে আমার শ্রবণশক্তিতে সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে আমার দৃষ্টিশক্তিতে সুস্থ রাখুন। আপনি ছাড়া কোনো হক ইলাহ নেই। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কুফরি ও দারিদ্র্য থেকে। হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক ইলাহ নেই।

আবু দাউদ: ৫০৯০

১২ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার • সন্ধ্যায়: «أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلهِ … رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هٰذِهِ اللَّيْلَةِ …» • ফযীলত: নবী ﷺ নিয়মিত বলতেন।

أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلهِ، وَالْحَمْدُ لِلهِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هٰذَا الْيَوْمِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هٰذَا الْيَوْمِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ

আসবা‘হনা ওয়া আসবা‘হাল মুলকু লিল্লা-হ, ওয়াল‘হামদু লিল্লা-হ। লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া‘হদাহূ লা- শারীকা লাহূ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল ‘হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাই‘ইন ক্বদীর। রাব্বি আসআলুকা খাইরা মা- ফী হা-যাল ইয়াওমি ওয়া খাইরা মা- বা‘দাহ, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা- ফী হা-যাল ইয়াওমি ওয়া শাররি মা- বা‘দাহ। রাব্বি আ‘ঊযু বিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূইল কিবারি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বিন ফিন্না-রি ওয়া ‘আযা-বিন ফিল ক্বাবর।

আমরা সকালে উপনীত হয়েছি এবং সৃষ্টিরাজ্যের সবকিছু আল্লাহর অনুগ্রহে দিনের মধ্যে প্রবেশ করেছে। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আমাদের প্রভু, আমি আপনার কাছে চাইছি এ দিবসের মধ্যে ও এর পরে যত কল্যাণ রয়েছে তা; আর আশ্রয় চাইছি এ দিবসের মধ্যে ও এর পরে যত অকল্যাণ রয়েছে তা থেকে। হে আমার প্রভু, আমি আশ্রয় চাইছি অলসতা ও বার্ধক্যের কষ্ট থেকে; জাহান্নামের শাস্তি ও কবরের শাস্তি থেকে।

মুসলিম: ২৭২৩; তিরমিযি: ৩৩৯০

১৩ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার • ফযীলত: কিয়ামতের দিন কেউ এর চেয়ে বেশি সাওয়াব নিয়ে আসতে পারবে না (যে এর চেয়ে বেশি পড়েছে সে ব্যতীত); অপর বর্ণনায়, সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহও ক্ষমা হবে। (আবু দাউদের বর্ণনায়: «سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ»)

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ

সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহী।

আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং তাঁর প্রশংসা করছি।

মুসলিম: ২৬৯২

১৪ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ৪ বার • বিশেষ দ্রষ্টব্য: সন্ধ্যায় «اللّٰهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ»-এর স্থলে «اللّٰهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ» বলবে • ফযীলত: যে ব্যক্তি সকালে অথবা সন্ধ্যায় এ দু'আ ৪ বার বলবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন।

اللّٰهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ وَجَمِيعَ خَلْقِكَ، بِأَنَّكَ أَنْتَ اللهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসবা‘হতু উশহিদুকা ওয়া উশহিদু ‘হামালাতা ‘আরশিকা ওয়া মালা-ইকাতাকা ওয়া জামী‘আ খালক্বিক, বিআন্নাকা আনতাল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা- আনতা ওয়া‘হদাকা লা- শারীকা লাকা ওয়া আন্না মু‘হাম্মাদান ‘আবদুকা ওয়া রাসূলুক।

হে আল্লাহ, আমি সকালে উপনীত হয়েছি। আপনাকে সাক্ষী রাখছি, আরও সাক্ষী রাখছি আপনার ‘আরশ বহনকারীদেরকে এবং আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সকল সৃষ্টিকে, (এই মর্মে) যে, নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো হক ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই; আর মুহাম্মাদ ﷺ আপনার বান্দা ও রাসূল।

আবু দাউদ: ৫০৬৯; ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ লিন-নাসাঈ: ৭

১৫ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার • ফযীলত: নবী ﷺ ফাতিমা (রা.)-কে সকাল-সন্ধ্যায় এ বাক্যগুলো বলার ওসিয়ত করেছেন।

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ

ইয়া- ‘হাইয়ু ইয়া- ক্বাইয়ূমু বিরা‘হমাতিকা আসতাগীস, আসলি‘হ লী শাঅনী কুল্লাহূ, ওয়া লা- তাকিলনী ইলা- নাফসী ত্বারফাতা ‘আইন।

হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আমি আপনার অনুগ্রহে সাহায্য-উদ্ধার কামনা করি, আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন, আর আমাকে আমার নিজের কাছে এক পলকের জন্যও সোপর্দ করবেন না।

হাকিম: ২০০০; ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ

১৬ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার • বিশেষ দ্রষ্টব্য: সন্ধ্যায় أَصْبَحَ-এর স্থলে أَمْسَى বলবে • ফযীলত: সকালে বললে সারা দিনের শোকর আদায় হবে, সন্ধ্যায় বললে রাতের শোকর আদায় হবে।

اللّٰهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ

আল্লা-হুম্মা মা- আসবা‘হা বী মিন নি‘মাতিন আও বি আ‘হাদিম মিন খালক্বিকা ফামিনকা ওয়া‘হদাকা লা- শারীকা লাকা, ফা লাকাল ‘হামদু ওয়া লাকাশ শুকরু।

হে আল্লাহ, আমি অথবা আপনার যে কোনো সৃষ্টি যে কোনো নিয়ামতসহ সকালে উপনীত হয়েছি, তা শুধুই আপনার তরফ থেকে, আপনার কোনো অংশীদার নেই। সুতরাং আপনার জন্যই প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।

ইবনে হিব্বান: ৮৬১

১৭ নং যিকর

সকালে ৩ বার • ফযীলত: ফজরের পর দীর্ঘ সময় সালাতের জায়গায় বসে আমল করার চেয়ে এই দু'আ ১ বার বলা বেশি সাওয়াবের।

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহী, ‘আদাদা খালক্বিহী, ওয়া রিদা- নাফসিহী, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহী, ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহ।

আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তোষের সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান ও তাঁর বাণীসমূহ লেখার কালি সমপরিমাণ।

মুসলিম: ২৭২৬

১৮ নং যিকর — ফজরের সালাতের পর

ফজরের সালাতের পর ১ বার • ফযীলত: রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের সালাতের পর এ বাক্যগুলো বলতেন।

اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ‘ইলমান না-ফি‘আ, ওয়া রিযক্বান ত্বাইয়িবা, ওয়া ‘আমালাম মুতাক্বাব্বালা।

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান এবং হালাল রিযিক ও কবুলযোগ্য আমল চাই।

ইবনে মাজাহ: ৯২৫

১৯ নং যিকর

সন্ধ্যায় ৩ বার • ফযীলত: যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এ দু'আটি ৩ বার বলবে সেই রাতে কোনো বিষধর প্রাণী তার ক্ষতি করতে পারবে না।

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শাররি মা- খালাক্ব।

আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের মাধ্যমে আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।

আহমাদ: ১৫৭০৯; ইবনে মাজাহ: ৩৫১৮

২০ নং যিকর

সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার • ফযীলত: যে এ দু'আ সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার বলবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে তাকে সন্তুষ্ট করা তার প্রাপ্য হয়ে যায়।

رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

রাদীতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলা-মি দীনা, ওয়া বিমু‘হাম্মাদিন নাবিয়্যা।

আমি সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন ও মুহাম্মাদ ﷺ-কে নবীরূপে গ্রহণ করেছি।

হাকিম: ১৯০৫; ইবনে মাজাহ: ৩৮৭০; আহমাদ

২১ নং যিকর

ফজর ও মাগরিবের পর ৭ বার • ফযীলত: ফজর ও মাগরিবের পর কারো সাথে কথা বলার পূর্বে ৭ বার পাঠ করলে, সেদিন/সেই রাতে মৃত্যু হলে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন।

اللّٰهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

আল্লা-হুম্মা আজিরনী মিনান্না-র।

হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।

ইবনে হিব্বান: ২০২২

২২ নং যিকর — তাসবীহ

ফজরের পরে ও মাগরিবের পূর্বে প্রতিটি ১০০ বার করে • ফযীলত: «سُبْحَانَ اللهِ» — আল্লাহর রাস্তায় ১০০ উট দানের চেয়ে উত্তম; «الْحَمْدُ لِلهِ» — ১০০ অশ্ব দানের চেয়ে উত্তম; «اللهُ أَكْبَرُ» — ১০০ কৃতদাস মুক্ত করার চেয়ে উত্তম।

سُبْحَانَ اللهِ — الْحَمْدُ لِلهِ — اللهُ أَكْبَرُ

সুব‘হা-নাল্লা-হ — আলহামদু লিল্লা-হ — আল্লা-হু আকবার (প্রতিটি ১০০ বার)।

আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি — সকল প্রশংসা আল্লাহর — আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

আত-তারগীব ওয়াত তারহীব: ৯৭৪; সহীহুত তারগীব: ৬৫৮; নাসাঈ, সুনানুল কুবরা: ১০৫৮৮